গত এক-দেড় বছর ধরে ভাবতেছিলাম তাইওয়ান যাবো। যাওয়ার জন্য কোন একটা অজুহাত তো লাগবে! ফাইনালি সেই সুযোগটা এলো মাস তিনেক আগে, যখন দেখলাম রুবি কনফ তাইওয়ানের টিকেট ছেড়েছে! আমিও ঝটপট সেটা কিনে রেখে দিলাম। ভিসা পাওয়া নিশ্চয়তা ছাড়াই টিকিট কেনার পূর্ব অভিজ্ঞতা আমার আছে! মানে কিছু টাকা জলে ফেলা আরকি!

ভিসা পাওয়া

আয়োজকদের বললাম, ইনভাইটেশন পাঠাও, আমি ভিসার জন্য এপ্লাই করবো। ওরা বলতেছে, আমরা তো এর আগে তোমার দেশের কারো জন্য ভিসা প্রসেস করি নাই, এপ্লিকেশন প্রসেসটা কি তুমি ম্যানেজ করতে পারবা কিনা। আমি বললাম, ইনভাইটেশন পাঠাও, আমি দেখতেছি বাকিটা!

ইনভাইটেশন পাওয়ার পরে সব ফর্ম ফিলাপ করে, ছবি তুলে আমি গেলাম জমা দিতে। আমি একদিন বাফার টাইম ধরে রেখেছিলাম, যে কোন না কোন কাগজ তো গ্যান্জাম করে রেখেছি, সো একদিন ঘোরা লাগতে পারে! দেড় ঘন্টা মেট্রোতে সিদ্ধ হয়ে গিয়ে শুনি ওদের অফিস নাকি ওখানে আর নাই, আরেক এলাকায় চলে গেছে, এবং সেটা ধারে কাছে না!

পরেরদিন সকালে আবার ২ ঘন্টা রাস্তা ঠেলে গেলাম। গার্ড বলে ছবি আঠা দিয়া লাগাতে হবে ফর্মে। (এটা আমি জানতাম, কিন্তু লাগাই নাই। ছবি তুলতে অনেক টাকা খরচ হইছে, ফর্মে কোন ঝামেলার জন্য ছবিটা নষ্ট হো‌ক সেটা চাই নাই। আমার কাছে কোন এক্সট্রা কপিও ছিলো না!) দেখি ওদের ওখানেই আঠা লাগানোর ব্যবস্থা আছে। তারপর সিরিয়াল নাম্বার পেলাম। ২০ মিনিস বসার পর আমার ডাক আসলো।

কাউন্টারে পেপার্স বাড়িয়ে দিলাম। ১ মিনিটের কম সময়ে বলে বাংলাদেশীদের টুরিস্ট ভিসা দেয়া হয় না, ভাগো। আমি পুরাই ক্যালায়া গেছি। দুইদিনে অলরেডী ৫-৬ ঘন্টা টাইম নষ্ট আমার। বিনিময়ে ওরা ১ মিনিট টাইমও দিবে না! প্রথমে এই জিনিসটাই মাথায় আসতেছিলো! :/

কোনরকমে বললাম, দাড়াও, আমি তো আসলে একটা কনফারেন্সে জয়েন করার জন্য যেতে চাচ্ছি! জিগায় কিসের কনফারেন্স, ইন্ট্যারন্যাশনাল কনফারেন্স কিনা। আমি হ্যা সূচক উত্তর দিলাম, সাথে প্রসপেক্টাসটা বের করে দিলাম সব কাগজের মাঝ থেকে! দুই মিনিস এদিক ওদিক, সাথে ইনভাইটেশন লেটার টা দেখার পর তারা বাকি কাগজ দেখতে ইন্টারেস্টেড হলো! নিজেই ফর্মে টুরিস্ট ভিসা কেটে বিজনের ভিসা বানিয়ে দিলো। দরকারী কাগজগুলা রেখে দিলো, সাথে পরেরদিন ইন্টারভিউ এর এজন্য এপয়েন্টমেন্ট দিয়ে দিলো!

তৃতীয়দিন আবার গেলাম। ইন্টারভিউ শুরু হওয়ার কথা ৯-৯:৩০ এ। আমি ৮:৪৫ এ গিয়ে বসে রইছি, আমার আবার অফিসে ব্যাক করতে হবে। প্রথম সিরিয়াল পেলাম, কিন্তু ইন্টারভিউ আর শুরু হয় না। শেষে ১১:৪৫ এর দিকে শুরু হলো। ৩-৪ মিনিটে ইন্টারভিউ শেষ করে চলে আসলাম।

শেষে ডেলিভারী ডেটে গিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আসলাম। ভিসা পাইছি কিনা সেটা ওরাই চেক করে আরেকটা স্লিপ দিয়ে দিলো। কি কি তাইওয়ানে নেয়া যাবে না তার শর্টলিস্ট!

যাওয়া আসা এবং থাকা

আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এটা একটা বাজেট ট্রিপ হবে। তো কিছু ঘাটাঘাটি করে সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার হোটেলে নয়, বরং হোস্টেলে থাকবো। আরেকটা কারণে হোস্টেল প্রেফার করেছিলাম, নতুন মানুষের সাথে পরিচয় হবে! সে অনুয়ায়ীই খুজে খুজে সবচাইতে সস্তা এয়ারটিকিট বুক করলাম। পীক আওয়ারের বাড়তি খরচ এড়ানোর জন্য উইকেন্ডে ফ্লাই করবনা সিদ্ধান্ত নিলাম। সাথে মোটামুটি রিভিউ ওয়ালা একটা হোস্টেল বেড বুকিং দিয়ে রাখলাম। হোস্টেল বুকিংটা একটু লেট করে ফেলেছিলাম আলসেমী করে। নাহলে খরচ আরেকটু কমতো!

ফ্লাইট ছিলো ২৫ তারিখ সকাল ৬ টায়। আমি লেট নাইট ট্যাক্সি ভাড়া এড়ানো‌র জন্য ২৪ তারিখ রাত ১১:৪০ এর দিকে শেষ মেট্রোতে উঠে পড়লাম। এরপর বাকি রাস্তা বাসে এবং কিছুটা হেটে (ভুলে আমি আগের স্টপেজে নেমে পড়েছিলাম বাস থেকে) রাত ২ টার দিকে এয়ারপোর্টে পৌছাই! রাতের বেলা এয়ারপোর্টে ফাও খরচ এড়ানোর জন্য আমি সাথে করে এক প্যাকেট পপকর্ণ নিয়ে গেছিলাম (যেটা লোকাল বাজার থেকে কেনা ১০ বাথে, এয়ারপোর্টে সিমিলার ক্ষুধা নিবারক কিছু কেনা লাগলে হয়তো ৫০-১০০ লাগতো!), ওটাই চিবানো শুরু করলাম বসে বসে, আর অফিসের কিছু কাজ আগাইয়া রাখতেছিলাম। সোয়া ৩ টায় চেকইন কাউন্টারে গিয়া দেখি বিশাল সিরিয়াল। এক ঘন্টা আগে আইসাও এই সিরিয়াল ধরা লাগতেছে, কি আর করা!

খরচাপাতির হিসাব এবং বাকি ডিটেইলস নিয়ে আরো কয়েকটা পর্ব আসছে শিগ্রই। খোজ খবর রাখতে পারেন আমার প্রোফাইলেই!




What's on your mind?